পার্বত্য চট্টগ্রামে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে একটি প্রকল্পে অভিযোজন তহবিল বোর্ড প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রকল্পের নাম — সবুজ, সহনশীল ও অভিযোজিত পার্বত্য অর্থনীতি (গ্রেস)।
আন্তর্জাতিক পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্রের বিবৃতির বরাদ দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় সহায়তা দেওয়া হবে।
গ্রেস প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। আর আন্তর্জাতিক পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্র কাজ করবে আঞ্চলিক বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান– এই তিন পার্বত্য জেলায় প্রথম ধাপে ২৫টি উপজেলায়, পরে দ্বিতীয় ধাপে বাকি আরও ১০টি উপজেলায় বিস্তৃত হবে প্রকল্পের কার্যক্রম।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, ‘জলবায়ু অভিযোজন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এই অনুমোদনকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’
‘গ্রেস প্রকল্প স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করবে এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়িদের একটি সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়ক হবে,’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্রেস প্রকল্প পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই বিনিয়োগের দ্বার খুলে দিচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।’
আন্তর্জাতিক পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্র জানায়, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর পার্বত্য চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় (এনএপি) অঞ্চলটিকে ‘জলবায়ু চাপের শিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাহাড়ে প্রাকৃতিক সমাধানভিত্তিক অভিযোজন কৌশল বাস্তবায়ন করবে গ্রেস। এছাড়া জলাধার পুনরুদ্ধার ঝর্ণা ও ভূগর্ভস্থ পানির পরিকল্পিত ব্যবহার কৌশলের পাশাপাশি চালু করা হবে পাহাড়ি জমিতে ‘উপযোগী টেকসই কৃষি পদ্ধতি’।


