ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুলকে (৩৬) মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ভাই ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাঙ্গুড়া পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শাহিবুল ইসলাম পিপুল দৈনিক যুগান্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাংলা ট্রিবিউনের পাবনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। তিনি উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামীকে (২৩) হাসপাতালপাড়া সংলগ্ন এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিনসহ কয়েকজন যুবক। পরে তাকে ভাঙ্গুড়া মহিলা কলেজে নিয়ে মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে সাংবাদিক পিপুল তাৎক্ষণিক বিষয়টি ভাঙ্গুড়া থানার ওসিকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সামীকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
সাংবাদিক পিপুল জানান, ভাইকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ‘বাহার’ নামে এক ব্যক্তি ফোনে তার অবস্থান জেনে নেয়। পরে তিনি ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ডের বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে গালিগালাজ শুরু করে।
সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় জনৈক শরিফ নিজেকে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে তার অবস্থান জানতে চায়। পিপুল সিএনজি স্ট্যান্ডে আছেন জানালে শরিফ ও তার ১৫-২০ জন সহযোগী এসে তার ওপর হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে। পরে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় এসআই আল-আমিন হোসেন সেখানে উপস্থিত থেকে ভিডিও ধারণ করেন।
অভিযুক্ত শরীফ হোসেন মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ফেসবুকে আমাদের “বেদেপাড়ার ছেলেপেলে” বলে কটাক্ষ করে পোস্ট দেওয়ায় তাকে সেটি ডিলিট করতে বলা হয়েছিল। তিনি তা না করায় ছেলেরা রাগান্বিত ছিল, একটু হাতাহাতি হয়েছে।’
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি, তবে আমার ভাই এর সঙ্গে জড়িত নয়। ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রলীগের পুরোনো ঝামেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। আমি দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি।’
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, ‘এ ঘটনায় সাংবাদিক পিপুল বাদী হয়ে শরীফের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


