প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। সেজন্য সরকার গঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি, কীভাবে আমরা দ্রুত বন্ধ কলকারখানা চালু করতে পারি। যাতে আবার সেই সব শ্রমিক, যারা কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়েছেন, তাদের যেন আমরা কর্মের ব্যবস্থা করতে পারি।’
শুক্রবার ঢাকার নয়াপল্টনে মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের সব বন্ধ কলকারখানা পর্যায়ক্রমে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। শুধু তাই নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে, যাতে তারা এদেশে কলকারখানা করেন। সেটা করলে আরও অনেকের কর্মসংস্থান হবে।’
হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে হয়ত সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব না। পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা করব। তবে আপনাদের নির্বাচিত সরকার অবশ্যই খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। এবং সেকারণে আপনারা দেখেছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরে হকার ভাইদের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দিচ্ছি। তারা যেন বিশৃঙ্খলার মধ্যে না পড়েন। পর্যায়ক্রমে হকার ভাইদের পুনর্বাসন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা ভালো থাকলে, কৃষকরা ভালো থাকলে, তবেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ শ্রমিক ভাইদের পাশাপাশি নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শ্রমিক দলের যে ৭২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, আজ এই দিনে আমি সেই সব বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
আওয়ামী সরকারের দমন-পীড়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছি। কিন্তু মাত্র কয়েক বছর আগেও এই রাজপথ ও আশেপাশের পরিবেশ ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। বিএনপি বা এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো যখনই কোনো কর্মসূচির আয়োজন করত, তখনই স্বৈরাচারের বাহিনীর হামলার আশঙ্কায় আমাদের তটস্থ থাকতে হতো। সেই ভীতিকর পরিস্থিতি নিশ্চয়ই আপনারা ভুলে যাননি।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আমরা দেখেছি, শুধু শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক বা নারীরাই নন, বরং এ দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার। লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল দেশের অর্থনীতিকে। স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল। সেই বঞ্চনা আর শোষণের হাত থেকে মুক্তি পেতেই ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ১২ তারিখ থেকে হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক যাত্রা আবারও শুরু করেছে। আমরা অতীতে দেখেছি বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে, তখনই এ দেশে মিল কলকারখানা গড়ে উঠেছে। তখনই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়া শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে, কিছু মহলের সেটি পছন্দ নয়। সেই সব মহল চায় না, বাংলাদেশের মানুষ তার ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পরিশ্রম শুরু করুক। তারা চায় না, বাংলাদেশ পৃথিবীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামনে এগিয়ে যাক। সেই মহল, ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১২ তারিখের আগেও তারা সেটা করেছে। কিন্তু সফল হয়নি। এখন তারা নতুন করে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে বিতর্কিত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তারা চেষ্টা করছে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ যেন বন্ধুহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু বিশ্ব দরবার দেখছে বর্তমান সরকারের পেছনে দেশের মানুষের সমর্থন রয়েছে। সেজন্য বিশ্ব দরবার তাদের কথা কর্ণপাত করছে না। বরং বিশ্ব দরবার সরকারের সঙ্গে কথা বলছে কীভাবে তারা এদেশে বিনোয়োগ করবে।’
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং শ্রমিক নেতারা।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ অন্যান্য শিল্প জেলা থেকে শ্রমিকরা সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।
জনসভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকে লাল টুপি ও টি-শার্ট পরে, ব্যানার হাতে এবং ঢোল বাজিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এটিই রাজধানীতে বিএনপির প্রথম কোনো বড় ধরনের দলীয় কর্মসূচি।


