বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত সরকার। এর ফলে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে তৈরি পোশাকের ৩৬টি ট্রাক। ভারতের এ সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চিন্তিত স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট সকলে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, সব রকম প্রস্তুতি থাকলেও পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ‘গেইট পাশ’ অনুমতি না পাওয়ায় রোববার পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলো ভারতে যেতে পারেনি।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারত সরকারের আমদানি নিষেধাজ্ঞা চিঠি আমরা পাইনি। তবে পত্রিকায় দেখেছি। বেনাপোল বন্দর দিয়ে শনিবার পর্যন্ত সব পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তবে রোববার সকাল থেকে অন্যান্য পণ্য রপ্তানি হলেও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পোশাক জাতীয় কোনো পণ্য রপ্তানি হয়নি। ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পণ্য এখানে আটকে আছে।’
শনিবার ভারত সরকার স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পোশাকসহ প্রায় সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার কথা বলেছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এক মাসের মাথায় ভারতের এই পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আসে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৭ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকার পণ্য ভারতে রপ্তানি করে, গত অর্থবছরে তা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে ১৭ হাজার ৪২৫ কোটি টাকার পণ্য। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে রপ্তানি হয়েছে ১১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকার পণ্য।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতে প্রতিবছর প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির মতো বাজার রয়েছে। গত কয়েক বছরে যেসব পোশাক রপ্তানি হয়েছে, তার ৯৩ শতাংশ গেছে স্থলপথে। স্থলবন্দর নিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে এ খাতের চরম ক্ষতি হবে। কার্যত ভারতের সঙ্গে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। স্থলপথে এসব পণ্য রপ্তানিতে খরচ অনেক কম হতো কিন্তু সমুদ্র ও বিমান পথে পণ্য রপ্তানিতে খরচ অনেক বেশি হবে। যার মাধ্যমে ব্যবসা সম্ভব নয়।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, ‘বছরে ১০ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেশিরভাগ আমদানিকারকেরা বেনাপোল বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী। কিন্তু নতুন এ নিষেধাজ্ঞায় তার বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে যাবে।’


