মাগুরার উর্বর মাটিতে এখন দুলছে নতুন সম্ভাবনার ফসল চিয়া সিড। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ‘সুপার ফুড’ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা দিদার আহমেদসহ স্থানীয় অনেক কৃষক। মাত্র ৯০ থেকে ১০০ দিনের এই ফসল চাষে খরচ যেমন কম, তেমনি বাজারে এর চড়া দাম থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের নড়িহাটি গ্রামে দিদারের বিশাল চিয়া সিড খেত দেখতে এখন প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ ও আশপাশের কৃষকরা।
কৃষি বিষয়ে ডিগ্রিধারী তরুণ উদ্যোক্তা দিদার আহমেদ এবার দেড় একর জমিতে চিয়া সিড চাষ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা। তবে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী এই ফসল থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
দিদার জানান, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক আক্কাস খানের সহযোগিতায় গত নভেম্বর মাসে তিনি এই বিদেশি উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসলের বীজ বপন করেন। তার মতে, বীজ বপন থেকে শুরু করে সার, সেচ ও ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ। প্রতি বিঘায় মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়, যা অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক কম।
দিদার আহমেদ ইতঃপূর্বে সামার টমেটো, পেয়ারা, বিভিন্ন জাতের কুল, বারোমাসি লাউ ও স্কোয়াশ চাষ করে সফল হলেও চিয়া সিড নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য অনেক ফসলের তুলনায় চিয়া সিডে রোগবালাই অনেক কম এবং পরিচর্যাও সহজ। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় লাভের সম্ভাবনাও অনেক বেশি বলে তিনি মনে করেন।
নড়িহাটি গ্রামের এই সাফল্যের সূচনা হয়েছিল গত বছর। সেবার পরীক্ষামূলকভাবে চিয়া সিড চাষ করে ভালো ফলন পান ওই গ্রামের মাসুদ আলম। তার সেই সাফল্য দেখেই দিদার আহমেদ বড় পরিসরে চাষের অনুপ্রেরণা পান।
এলাকার কৃষক রাইসুল ইসলাম, মনি বিশ্বাস ও কমল হোসেনসহ অনেকেই নতুন এই ফসল নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা জানান, চিয়া সিড এলাকায় লাভজনক কৃষিতে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রামের অনেকেই আগামীতে এই চাষে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চিয়া সিড মূলত আমেরিকা, কানাডা ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তোকমা বা তিলের মতো দেখতে ছোট এই দানাদার বীজে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, প্রোটিন ও ওমেগা-থ্রি। এটি নিয়মিত খেলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমে ও রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সহায়তা করে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সুপারশপ ও অনলাইন বাজারে প্রতি কেজি চিয়া সিড ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম জানান, চলতি বছর জেলায় প্রায় ১৫০ একর জমিতে চিয়া সিডের আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, মাগুরার মাটি ও আবহাওয়া এই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
কৃষি বিভাগের যথাযথ প্রণোদনা এবং দিদারের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের সাহসী পদক্ষেপের ফলে এই অর্থকরী ফসলটি ভবিষ্যতে মাগুরার গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


