পরিবহন ও যোগাযোগে মনযোগ কম

পরিবহন ও যোগাযোগে মনযোগ কম
Advertisement
Advertisement

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেলেও সেই ধারাবাহিকতায় এবার ছেদ পড়তে যাচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট বাজেটের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত পরিবহন ও যোগাযোগ খাত মোট বাজেটের প্রায় ৯ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে ছিল।

এবার পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে ৬২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির এক শতাংশের মতো।

বুধবার দেশের মোট জিডিপির হিসাব প্রকাশ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো, যেখানে জিডিপির আকার দেখানো হয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন অর্থ বছরের বাজেটে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সরকার জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ টাকা বরাদ্দ দিতে যাচ্ছে।

টাকার অঙ্কে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের থেকে এই অঙ্ক অবশ্য ১২ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে পরবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৫০ হাজার ২৮০ কোটি টাকা, যা মূল বাজেটে ছিল ৭১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা।

এবার যোগাযোগ খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা রাখা হচ্ছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য। চলতি অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের জন্য এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ২৫ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা; তবে মূল বাজেটে তা ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

আরও পড়ুন

তবে সেতু বিভাগের জন্য নতুন অর্থ বছরে বরাদ্দ কমে যাচ্ছে অনেকটাই। অর্থমন্ত্রী এবার এই বিভাগের জন্য ২ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার প্রায় অর্ধেক।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ও খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। এবার ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা থেকে ৭৮৮ কোটি টাকা বেশি। এই অঙ্ক অবশ্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ১১ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকার চেয়ে কম।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সেই তুলনায় বরাদ্দ বেশি পেতে যাচ্ছে। এই খাতের জন্য ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা রাখতে চাইছেন অর্থমন্ত্রী। চলতি অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা।

নতুন অর্থ বছরের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত বছরের সংশোধিত বাজেটের থেকে ৫৮৪ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নতুন অর্থবছরে জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা গত অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৫৪ কোটি টাকা বেশি। গত অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেহেতু আগের সরকারের (আওয়ামী লীগ) সময় পর্যাপ্ত বরাদ্দ হয়েছে যোগাযোগ খাতে। সেই জায়গাটিতে কমিয়ে অন্যান্য উপখাতগুলোতে বরাদ্দের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করেছে বলে আমার ধারণা এবং যেহেতু মেগা প্রকল্প সরকার করছেন না। সুতরাং সেই কারণেও হয়ত বরাদ্দ কিছুটা কমেছে।’

তবে, নৌখাতে বরাদ্দ দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, ‘সরকার নদী ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে চায়। আবার খাল খনন বা ব্যারেজের মতো কর্মসূচি নিচ্ছে। সুতরাং নদীকেন্দ্রিক বা নদীব্যবস্থা সংক্রান্ত জায়গাতে হয়ত সরকারের কিছুটা নজর রয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad