বিতর্ক এড়াতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল ‘মাইকেল’। পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত এই বায়োপিক মুক্তির আগেই নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে, আর তাতেই বেড়েছে বাজেট।
শুরুতে ছবিটিতে জ্যাকসনের জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়—শিশু নির্যাতনের অভিযোগ—উপস্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। এমনকি প্রাথমিক চিত্রনাট্যে ১৯৯৩ সালের একটি দৃশ্যও রাখা হয়েছিল, যেখানে পুলিশের আলোয় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত এই অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব দৃশ্যই বাদ দেওয়া হয়েছে।
নির্মাতাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে আইনি জটিলতা। জ্যাকসন এস্টেটের আইনজীবীরা পূর্বের একটি চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করে দেখেন, অভিযোগকারী জর্ডান চ্যান্ডলারের নাম বা প্রসঙ্গ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা যাবে না। এর পরই গল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন নির্মাতারা।
ফলে ছবির শেষ অংশ নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। আগে যেখানে বিতর্ক ঘিরে সমাপ্তির পরিকল্পনা ছিল, এখন সেখানে দেখানো হবে জ্যাকসনের ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়—বিশেষ করে তার ‘ব্যাড’ ট্যুরের একটি পারফরম্যান্স।
এই পরিবর্তনের কারণে প্রায় ২২ দিন অতিরিক্ত শুটিং করতে হয়েছে, যা ছবির বাজেট ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। শুরুতে মোট বাজেট ধরা হয়েছিল প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলার। অতিরিক্ত ব্যয় বহন করেছে জ্যাকসন এস্টেটই।
ছবিতে জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করছেন তার ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। আর তার বাবা জো জ্যাকসনের ভূমিকায় দেখা কোলম্যান ডোমিংগোকে। গল্পে বিতর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তার সংগীতজীবন, পরিবার এবং বাবার সঙ্গে জটিল সম্পর্ককে।
এছাড়া ১৯৮৪ সালের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনাও দেখানো হবে, যখন শুটিংয়ের সময় তার মাথায় আগুন ধরে যায়—যা পরবর্তীতে তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
ছবিটির মুক্তির তারিখ একাধিকবার পিছিয়েছে। বর্তমানে ২০২৬ সালের বসন্তে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্মাতারা ভাবছেন, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ফুটেজ থেকে এটি দুই পর্বে ভাগ করা হতে পারে, যেখানে ভবিষ্যতে তার জীবনের পরবর্তী অধ্যায় আলাদা করে তুলে ধরা হবে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই ছবিটি ৫৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করতে পারে। আর বিশ্বব্যাপী আয়ের পরিমাণ ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


