পদপিষ্টের ঘটনায় আমি মর্মাহত: থালাপতি বিজয়

পদপিষ্টের ঘটনায় আমি মর্মাহত: থালাপতি বিজয়
জনসভায় বক্তব্য রাখছেন অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়। ছবি: এনডিটিভি
Advertisement
Advertisement

ভারতের তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় নিজের সমাবেশে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন  তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) দলের প্রতিষ্ঠাতা  থালাপতি বিজয়।

এনডিটিভি এবং আনন্দবাজার ডটকমের খবরে বলা হয়, ওই ঘটনার পরে বিজয় জনসভা থেকে চেন্নাই বিমানবন্দরের উদ্দেশে বেরিয়ে যান। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে শোকপ্রকাশ করে লেখেন, ‘পদপিষ্টের ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই দুর্ঘটনায় আমি এতটাই শোকস্তব্ধ যে ভাষায় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আমি মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা ও সহানুভূতি জানাই। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারুর জেলায় বিজয়ের ডাকে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে মূল বক্তা ছিলেন বিজয়। সভা দুপুরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা দেরিতে সভাস্থলে পৌঁছান বিজয়। তখন ভিড় মাত্রা ছাড়িয়েছে।

প্রাথমিক ভাবে ৩০ হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিনেতা, তথা রাজনীতিককে দেখতে জমায়েত হয়েছিলেন প্রায় দ্বিগুণ মানুষ। স্থানীয় সময় রাত ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পদপিষ্টের ঘটনাটি ঘটে। তার কিছুক্ষণ আগেই বক্তৃতা করতে উঠেছিলেন বিজয়। সে সময় ডিএমকে-র প্রাক্তন মন্ত্রী সেন্থিল বালাজীর তীব্র সমালোচনাও করেন বিজয়।

শনিবার রাতের পদদলিত হওয়ার ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জন  হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতের মধ্যে ১০ জন শিশু ও ১৭ জন নারী রয়েছেন।

ওই ঘটনায় পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে। আহতদের তামিলনাড়ু কারুর মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

শনিবার রাতের ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে বিজয় থালাপতি তার বক্তৃতা সংক্ষিপ্ত করেন এবং আহতদের সহায়তার জন্য পুলিশকে আহ্বান জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) সমর্থকরা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সমাবেশস্থলে অপেক্ষা করছিলেন। বিজয় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ভিড়। এ সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, অতিরিক্ত ভিড়ে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিজয় হঠাৎ বক্তৃতা শেষ করেন। দলীয় কর্মীরা প্রচারণা বাস থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের দিকে পানির বোতল ছুড়ে দেন সহায়তার উদ্দেশে।

ভিড়ের কারণে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে ব্যাপক বেগ পেতে হয়।

কারুর জেলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ডেভিডসন দেবাসিরভাথাম জানিয়েছেন, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে আরও অনেকে গুরুতর আহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নিহতদের বেশিরভাগ বিজয়ের রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে জানান তিনি।

এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন জেলা সচিবকে ঘটনাস্থল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে স্টালিন লেখেন, ‘কারুর থেকে আসা খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হাসপাতালে ভর্তি আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি।’

চেন্নাইয়ের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ডিএমকে বিজয়ের দলের অবহেলাকে দায়ী করে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর টিভিকে পক্ষ থেকে কর্মী-সমর্থকদের জন্য কঠোর আচরণবিধি জারি করা হয়েছিল। তাতে বলা হয়, বিজয়ের সমর্থকরা যেন গাড়িবহর অনুসরণ বা প্রকাশ্যে অভ্যর্থনা না জানান। গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ, শারীরিকভাবে অক্ষম ও অসুস্থদের অনলাইনে অনুষ্ঠান দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad