নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন। এক চিঠির মাধ্যমে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘মাননীয় প্রেসিডেন্ট, নেপালের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আমি মঙ্গলবার পদত্যাগ করছি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথে আরও পদক্ষেপ নিতে সংবিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিলাম।’
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নেপালে গত কয়েকদিন ধরে চলমান বিক্ষোভের মুখে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদী আন্দোলনে দেশব্যাপী অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভঙ্গ করে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানায়। আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই বাড়ে, পার্লামেন্ট ভবনে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও হামলা করা হয়।

এ ছাড়া, নেপালি সেনাবাহিনী সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য হেলিকপ্টার পাঠিয়ে মন্ত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী যুবকরা ‘জেন-জি রেভল্যুশন’ শিরোনামে এক আন্দোলন শুরু করে, যা সহিংসতায় পরিণত হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছে, বহু লোক আহত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে হামলার পর স্থানীয় নেতারা ও সেনাপ্রধান নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানান, যার পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন।


