ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা বাজার এলাকায় কংস নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি ধসে পড়েছে। এতে তারাকান্দা-ধোবাউড়া সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই পাড়ের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রোববার ভোর ৪টার দিকে একটি বালুবোঝাই ট্রাক ব্রিজে ওঠার পরপরই সেটি বিকট শব্দে ভেঙে নদীতে দেবে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ভারী যানচলাচল ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। ভোরে বালুবোঝাই ট্রাকটি পার হওয়ার সময় একটি অংশ ভেঙে পড়লে সড়কটিতে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
কংস নদীর এই বেইলি ব্রিজটি ধোবাউড়া উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন বাস, ট্রাক, শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও পিকআপসহ অসংখ্য মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করতেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের স্টিলের পাত খুলে ও ভেঙে গেলেও সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এটি ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, ‘ব্রিজটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার জানানো হয়েছিল। কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলেই আজ পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।’
আরেক বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ব্রিজ ধসের পর যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে নদী পার হতে হচ্ছে। মালামাল পরিবহন বন্ধ। জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’
দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দ্রুত অস্থায়ী সেতু বা পারাপারের ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
ব্রিজটি ধসে পড়ায় ধোবাউড়া ও তারাকান্দার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।
খবর পেয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ব্রিজটি মেরামত বা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ১০ বছর আগেই ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল।’
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত নৌকা বা অস্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে পারাপারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।


