নেপালে চলমান জেনারেশনের জেড (জেন-জি) বিক্ষোভে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝালনাথ খানালের স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকরকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ভারতের এনডিটিভি জানিয়েছে, জেন-জি নেতৃত্বাধীন তরুণ বিক্ষোভকারীরা তাদের কাঠমান্ডুর ডাল্লু এলাকার বাসভবনে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সময় চিত্রকর বাড়ির ভেতরে ছিলেন। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিত্রকরকে উদ্ধার করে কীর্তিপুর বার্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এর আগে সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই পদত্যাগ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। এরপর রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌদেলও পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া অলির মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু প্রসাদ পাওডেলকে (৬৫) বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় ধাওয়া করে মারধর করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, তাকে লাথি ও ঘুষি মেরে গুরুতরভাবে পেটানো হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংক্ষিপ্ত নিষেধাজ্ঞা ও সরকারের দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে বিক্ষোভ তীব্র সহিংস রূপ নেয়। সোমবার নৈতিক দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকও পদত্যাগ করেন।
‘জেনারেশন জেড প্রোটেস্ট’ নামে পরিচিত আন্দোলন শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। সরকার অভিযোগ করেছিল, ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম নেপালে নিবন্ধন না করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও আন্দোলন থামেনি। বরং বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন ও মন্ত্রীদের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরও বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সেনা হেলিকপ্টারে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করছে না, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপও নিচ্ছে না। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের বক্তব্য রাজনীতিবিদদের সন্তানরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, যখন সাধারণ তরুণেরা চাকরির অভাবে হতাশ।


