বিভক্ত জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন নির্বাচনী জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার কথা বলে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর মধ্যে অনেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দেননি। যারা জমা দিয়েছেন তারা প্রত্যাহার করে নেবেন। এনডিএফের শীর্ষ নেতা, সাবেক এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা সোমবার রাতে টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জিএম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে বেরিয়ে দলের কয়েকজনকে নিয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে জাপার আরেকটি গ্রুপ তৈরি হয়। আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে গত ৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএফ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই জোটে সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপিসহ ১৮টি রাজনৈতিক দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জাপা, জেপি, জনতা পার্টি বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ও গণফ্রন্ট।
জোটের ৬টি নিবন্ধিত এবং ১২টি দল নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে। জোট ১১৯টি আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। এনডিএফের মনোনয়ন দেওয়া তালিকায় অন্তত ১৮ জন একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন। যাদের মধ্যে সাতজন বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও নির্বাচনে সোমবার অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা ও মামলা প্রত্যাহার না করায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিচ্ছেন না জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের মুখপাত্র এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ।
জোটের প্রধান সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মুজিবুল হক চুন্নু মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তারা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে নেতারা জানিয়েছেন।
গত ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মুজিবুল হক চুন্নু ১১৯টি আসনে জোটের প্রাথমিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। চুন্নু বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ১১৯টি আসনের জন্য ১৩১ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছি। কয়েকটি আসনে একাধিক প্রার্থী রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।’


