গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার বিচার না হলে দেশের মানুষের বিচার বিভাগের ওপর আস্থা তৈরি হবে না বলে মনে করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন।
সোমবার সন্ধ্যায় তদন্ত কমিশনকে দেওয়া বক্তব্যে এমন কথাই জানিয়েছেন তিনি।
নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনের কাছে এ বক্তব্য দেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় রাশেদ খাঁনসহ চারজনের বক্তব্য আলাদাভাবে গ্রহণ করে তদন্ত কমিশন।
আরও যারা বক্তব্য দিয়েছেন তারা হলেন, গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবদুজ জাহের, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সম্রাট।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিশনকে নুরুলহক নুরসহ নেতাকর্মীদের উপর ঐ দিনের হামলার ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছি এবং তাদের কাছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করেছি। আমরা বলেছি, শেখ হাসিনার আমলে আমরা মাইর খেয়েছি, আমরা ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল করার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছি এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা লড়াই করেছি।’
‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি হয়েও নুরুল হক নুরসহ আমাদের নেতাকর্মীদের মাইর খাওয়া সরকারের জন্যই লজ্জাজনক। এই ঘটনার বিচার না হলে বিচারবিভাগের উপর মানুষের আস্থা তৈরি হবে না। আমরা আপনাদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে চাই। ঘটনার সঙ্গে যারাই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
গত ২৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় তার মাথায় আঘাত লাগা এবং নাকের হাড় ভেঙে যাওয়াসহ গুরুতর অবস্থা দেখা দেয়।
প্রথমে তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং ঢামেকে প্রায় ১৮ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়ি ফেরেন।
দেশে চিকিৎসা নিয়ে কিছু শারীরিক জটিলতা রয়ে যাওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে ২২ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যান। সেখানে মোট ১২ দিন চিকিৎসা গ্রহণের পর দেশে ফেরেন তিনি।


