একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে অভিযোগ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, এখনই এসব ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে তা বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। আর সেই বিপর্যয়ের কারণে পিছিয়ে যেতে পারে আগামী জাতীয় নির্বাচনও।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর হামলার শিকার ভবন পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল হক বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর হাদির মতো একজন সংগ্রামী তরুণের গুলিবিদ্ধ হওয়া, দুটি গণমাধ্যম অফিসে হামলা, সম্পাদকে লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনাগুলোয় যদি সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ না দিতে পারে তাহলে আগামীতে সেটি আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। যে বিপর্যয় নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে পারে, নির্বাচনকে অনিশ্চিত করতে পারে ।’
‘এটি যদি হয় তা আমাদের কারও জন্যই মঙ্গল হবে না। এসব মেনে নেওয়া যায় না।’
নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ স্থিতিশীল করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে এই নেতা বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের ১৫ মাস পরে দেশের এই চিত্র দেশ সম্পরর্কে নেতিবাচক বার্তা দেয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা রাষ্ট্রব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে ধারণা দেয়। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিতে পারব না।’
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা-আগুনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই হামলা গণতন্ত্রের ওপর হামলা। আমরা যেন কারও ফাঁদে পা দিয়ে দেশকে নতুন সংকটের দিকে ঠেলে না দিই। নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশ পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’
ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা দেশের মানুষ শোকার্ত হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, ‘আমাদের এই ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে, এই সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে সেদিন রাতে একদল বিপথগামী মানুষ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য, তৃতীয় পক্ষকে সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রথম আলো-ডেইলি স্টারসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় নাশকতা করেছে। চট্টগ্রামে একটি উপহাইকমিশনে ভাঙচুর করেছে।’
‘আমরা মনে করি এগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য তৃতীয় পক্ষকে সুযোগ দেওয়ার জন্য এসব করা হয়েছে।’
এসময় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।


