ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীসহ সারা দেশে অপরাধীদের তৎপরতা রোধ এবং ঘরমুখী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একযোগে মাঠে নেমেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
ফাঁকা রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কোরবানির পশুর হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ঈদযাত্রায় যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে সমন্বিতভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রা ও ঈদ উদযাপনকে ঘিরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় ও মনিটরিং সেল’ গঠন করা হয়েছে। গত রোববার মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা এক অফিস আদেশে ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মো. জসিম উদ্দীনকে এই কমিটির আহ্বায়ক এবং আইসিটি সেলের প্রোগ্রামার প্রকাশ চন্দ্র কর্মকারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মাদক-১ শাখার উপসচিব মো. মাহবুব আলম, প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব মো. তোফায়েল হোসেন, কারা-১ শাখার উপসচিব মো. হাফিজ-আল-আসাদ, বাজেট-১ শাখার উপসচিব বিকাশ বিশ্বাস, পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ, রাজনৈতিক-২ শাখার উপসচিব কে. এম. ইয়াসির আরাফাত এবং সীমান্ত-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মরিয়ম জাহান।
এ ছাড়া, প্রশাসনিক ও কারিগরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইসিটি সেলে এই মনিটরিং সেল সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, মহাসড়কের যানজট এবং ঈদের নামাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরে চালু হওয়া বিশেষ মনিটরিং সেলটি ঈদের আগে ও পরে মোট ১৪ দিন ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে।
দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, ঈদ উদযাপনে দেশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের পক্ষ থেকে জোরদার ‘রোবাস্ট পেট্রোলিং’ (শক্তিশালী টহল) কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের কার্যালয় থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সোমবার জানিয়েছেন, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা, পশুর হাট, ব্যাংক ও ঈদের নামাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ডিএমপি। ঈদযাত্রায় যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট এবং বিশেষ মোবাইল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সায়েবাবাদ, গাবতলী, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট।
পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতির পাশাপাশি সাব-কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। পশুবাহী যানবাহন যাতে নির্ধারিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও জোরপূর্বক নামানো না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রয়েছে। গরুর হাটের কারণে প্রধান সড়কে যাতে যানজট না হয়, সেজন্য হাটের সীমানার বাইরে বা ফুটপাতে কোনো পশু রাখতে দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন স্থাপন করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে হাসিল কাউন্টারে বুথ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রুখতে ডিবিসহ সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা মাঠে থাকবে। বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশের ‘মানি এসকর্ট সার্ভিস’ চালু রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত মোবাইল টিম, ফুট পেট্রোল ও সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুরো মহানগরিকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।


