আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠানের সুপারিশ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করারও তাগিদ দিয়েছে তারা।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নানা সুপারিশে এসব কথা বলা হয়েছে বলে জানান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ।
মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার হাতে এসব সুপারিশ তুলে দেওয়ার পর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আলী রীয়াজ একথা জানান।
তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের কাজের প্রধান ক্ষেত্র ছিলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠারগুলোতে জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, স্থায়ী গণতান্ত্রিকীকরণের পথরেখা নির্দেশ করা, ভবিষ্যতে ক্ষমতার এককেন্দ্রিকরণ রোধ করা এবং সামগ্রিকভাবে যেনো একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র তৈরি হয় তার জন্য সুপারিশ পেশ করা।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার কীভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে, সেই দিকনির্দেশনা কমিশন সুস্পষ্টভাবে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোন সুপারিশগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে এবং কোনগুলো আদেশ (অর্ডার) জারি করে বাস্তবায়ন করা যাবে—তা আলাদা করে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ছয়টি সংস্কার কমিশনের মোট ১৬৬টি সুপারিশ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়। রাজনৈতিক দলের মতামত, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও কমিশনের সদস্যদের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এই সুপারিশমালা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংবিধান বিষয়ে ৪৮টি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার রূপরেখার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই জানিয়েছে ঐকমত্য কমিশন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ দেখুন এখানে: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ


