সারা দেশে দুষ্কৃতিকারীরা নানা ধরনের অঘটন ঘটানোর পরও কেন তারা ধরা পড়ছে না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘দুষ্কৃতিকারীরা সারা দেশে অঘটন ঘটাচ্ছে, রক্তপাত করছে। কিন্তু ধরা পড়ছে না কেন? তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? আগে তো এমনটি ছিলো না। অপরাধ করার পর কয়েকদিনের মধ্যে তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যেত, ধরা যেত।’
রোববার রাত ১০ টার দিকে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জের চর মনসা গ্রামে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বাড়িতে যান রিজভী। সেখানে বেলালের পোড়া বাড়ি পরিদর্শন এবং পরিবারের খোঁজ খবর নেন।
আগুনে পুড়ে নিহত বেলালের কন্যা আয়েশা আক্তারের কবরও জিয়ারত করেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনারা আরও তৎপর হন, নাহলে আপনাদের প্রতি মানুষের সন্দেহ জাগবে। আপনাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে যদি দুষ্কৃতিকারীরা রেহাই পেয়ে যায়, তাহলে এ সমাজে অন্ধকার নেমে আসবে।’

এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বেলাল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগমকে সমবেদনা জানান এবং তার হাতে চার লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেন বিএনপির সিনিয়র এই নেতা।
সেখানে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও জেলা বিএনপির আহবায়ক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিও উপস্থিত ছিলেন।
এ্যানি বলেন, ‘হাদির হত্যাকাণ্ড আর লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা বেলালের ঘরে সবাইকে মারার জন্য আগুন দেওয়া একই সূত্রে গাঁথা। কেউ না কেউ কলকব্জা নাড়ছে। হয়তো রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিও হতে পারে। কারণ তারা চায়না নির্বাচন হোক।’
এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে দগ্ধ বেলালকে দেখতে যায় বিএনপির ওই প্রতিনিধি দল।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রুহুল কবির রিজভী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা জামান সেলিম, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব প্রমুখ।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবউদ্দিন সাবু, লক্ষ্মীপুর সদর পূর্ব বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ-সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
গত শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলালের ঘরে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে তার মেয়ে আয়েশা আক্তার (৮) মারা যায়। এছাড়া বেলালসহ তার দুই মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৪) ও বীথি আক্তার (১৮) দগ্ধ হয়।


