আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তার অধিকাংশই রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের ভেতরের দ্বন্দ্বের ফল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা হচ্ছে, সেগুলো বেশির ভাগই নিজেদের দলের ভেতরে। কোনো অনুষ্ঠানে একজন প্রতিনিধি দাওয়াত দিলে চলে আসে দু’জন। তখন সিদ্ধান্তের অমিল হলে নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে লেগে যায়।’
রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই।
এ ছাড়া পাহাড়, সমুদ্র ও সমতল; এই তিন ধরনের এলাকা থাকায় এখানে সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ সব ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্ট্যান্ডবাই হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মতবিনিময় সভায় প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিদিনই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দু-একটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকার আশঙ্কা নাকচ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন চলার সময় ইন্টারনেট খোলা থাকবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে বা লিখতে পারতেন না। এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে তিনি মিথ্যা ও গুজব সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানান।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভোটকেন্দ্রে নারীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন। এ নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কার কারণ নেই।


