আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ১৪ দিনের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঈদের আগে সাত দিন ও পরে সাত দিন–মোট দুই সপ্তাহজুড়ে চলবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি ও সমন্বিত নিরাপত্তা কার্যক্রম। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টারে চালু থাকবে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে ঈদযাত্রা, পশুর হাট, শিল্পাঞ্চল, নৌপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে মহাসড়কের গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত গতিনিয়ন্ত্রণে পুলিশের স্পিডগান ব্যবহার, দুর্ঘটনাগ্রস্ত যান দ্রুত সরাতে রেকার প্রস্তুত রাখা এবং পুরোনো ও অনিরাপদ যানবাহনের চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিসিকেও বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সভা শেষে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে সড়ক, মহাসড়ক, নৌপথ, পশুর হাট, শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দ্রুত সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর জরুরি হটলাইন নম্বর প্রকাশ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ রেজুলেশন শিগগিরই প্রকাশ করা হবে, যেখানে প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব ও হটলাইন নম্বর বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে।
সভায় জানানো হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, হাইওয়ে পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে ঈদের সময় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৪৪১২ পশুর হাটে জোরদার নিরাপত্তা
এবার সারা দেশে মোট ৪ হাজার ৪১২ পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি, দক্ষিণ সিটিতে ১১টি, অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ১২৭টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪ হাজার ২৫৯টি হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে।
প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন এবং আনসার সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংককে পশুর হাটে সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া হাটের ইজারাদার ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিজস্ব উদ্যোগে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চাঁদাবাজি ঠেকাতে বডিক্যাম ও গোয়েন্দা নজরদারি
কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও নৌযানে অতীতের চাঁদাবাজির অভিযোগের পর এবার কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডিক্যাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে কাজ করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোথাও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে হটলাইনে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিতে উদ্যোগ
ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বন্ধ বা অসুস্থ কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চামড়া সংরক্ষণে লবণ বিতরণ
কোরবানির পশুর চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত এই লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পশু জবাইয়ের দুই ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ মাখানোর আহ্বান জানিয়ে দেশের সব মসজিদে প্রচারণা চালানো হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ বিষয়ে প্রচারসামগ্রী তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালাবে।
এ ছাড়া চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে মূল্য নির্ধারণ করে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করবে।


