নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সাওতখালি গ্রামের ১৫ বছরের কিশোরী আসমা আক্তার ঢাকায় এসেছিল পোশাক কারখানায় কাজ করতে। যে ভবনে ছিল তার কারখানা, সেটিতে মঙ্গলবার আগুন লেগেছে। এরপর থেকে খোঁজ নেই আসমার। তাই একটি এ-ফোর সাইজ কাগজে আসমার রঙিন ছবি প্রিন্ট করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এসেছেন তার দুলাভাই তামিম আহমেদ।
তামিম জানালেন, আসমা কোন গার্মেন্টসে কাজ করত তা তিনি জানেন না। শুধু জানেন ওই ভবনেই ছিল তার কারখানা। সে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তাও বুঝতে পারছেন না। এখন ছবি নিয়ে ঘুরছেন, যদি কোনো হদিস মেলে সেই আশায়।
আসমার বাবার নাম মো. নয়ন। সে থাকত মিরপুরের শিয়ালবাড়ির ১০ নম্বর রোডে খালার বাসায়। সেখান থেকেই রোজ যাওয়া-আসা করত কারখানায়।
তানিম বলেন, ‘আগুন লাগার পর খবর শুনে কারখানায় গেছি। তবে আসমার কোন খোঁজ পাইনি। এরপর আসমাকে খুঁজতে বিভিন্ন হাসপাতালে যাচ্ছি। কিন্তু পাচ্ছি না।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বার্ন ইউনিটের সামনে এমন স্বজনদের ভিড়।
খালাত ভাই খালিদ হাসান সাব্বিরকে (৩৪) খুঁজতে এসেছেন শাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, খালিদের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়। তার বাবার নাম মনিরুল ইসলাম। মোহাম্মদপুরে থাকতেন তিনি।
আগুন লাগা ভবনটির চার তলায় আরএন ফ্যাশনের স্টোরে কাজ করতেন সাব্বির।
শাকিল বলেনম ‘ওর ফোন চালু রয়েছে। তবে কল রিসিভ হচ্ছে না। বার্ন ইনস্টিটিউটে এসে ওর সহকর্মীদের পেয়েছি। কিন্তু ওকে পাচ্ছি না। সহকর্মীরাও ওর কথা বলতে পারছেন না।’
নুরে আলমকে (৩০) নামে একজনকে খুঁজতে এসেছেন মিরপুর-১ এর বেঙ্গল রিপু ফ্যাশনের ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন নুরে আলম। মঙ্গলবার গিয়েছিলেন ওই ভবনটিতে অবস্থিত গার্মেন্টসে। এরপর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
এরইমধ্যে ১৬ জন পোশাককর্মীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিখোঁজ এই ব্যক্তিদের খোঁজ মিলবে কিনা, নাকি বাড়তে থাকা লাশের সংখ্যায় যুক্ত হবেন তারাও; সে প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজে ফিরছেন পরিচিত ও স্বজনরা।


