নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদিরের (৫০) পর এবার ছেলে রাকিবের (১৬) মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার সকালে বাবা আব্দুল কাদির এবং দুপুর ২টার দিকে ছেলে রাকিব জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় কাদিরের আরও দুই ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কাদিরের শরীরের ৫৭ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার মৃত্যুর পর ছেলে রাকিবও মারা যান। এই ঘটনায় দগ্ধ আব্দুল কাদিরের অন্য দুই ছেলে মেহেদী (১৭) ও সাকিব (১৬) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় একতলা ওই বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রতিবেশী ফারুক জানান, বিস্ফোরণে বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে পড়ে এবং দগ্ধ অবস্থায় ঘরের ভেতর থেকে সদস্যদের বের হতে দেখেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, নিহত কাদির চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। তার ছেলেরা পেশায় চটপটি, হালিম বিক্রি ও কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
দুর্ঘটনার সময় বাবা ও তিন ছেলে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। আব্দুল কাদিরের স্ত্রী পানি সংগ্রহের জন্য ঘরের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
স্থানীয়দের ধারণা, লাইনের লিকেজের কারণে ঘরে জমে থাকা গ্যাস অথবা ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
এই ঘটনার আগে রোববার ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছিলেন, যারা পরবর্তীতে সবাই মারা যান।


