মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই কৃষকের আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও টেকসই ও মজবুত হবে।
শনিবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিণধরা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নে গোমতী নদী ও জৈন্তার খাল পরিদর্শন করেন।
কৃষি কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাজারে সারের দাম বেশি নেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে সিভিল ড্রেসে অবস্থান করে প্রমাণ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট জানান, কৃষকের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। সরকার ধান ক্রয়ের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করেই করা হয়েছে। তাই কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
মন্ত্রী তথ্য দেন, সারা দেশে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় ইতোমধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাচ্ছেন, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আশ্বস্ত করেন, কোনো দালাল নয়, বরং প্রকৃত কৃষকরাই সরাসরি কৃষি অফিস থেকে হার্ভেস্টিং মেশিনসহ সব ধরনের সরকারি সুবিধা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে এই কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কৃষি ঋণ মওকুফ ও সারে ভর্তুকির ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় কৃষকদের সুবিধার্থে নিমসার সবজি বাজারে একটি আধুনিক সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের ঘোষণাও দেন মন্ত্রী।
কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সমাবেশে অংশ নেন।


