দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে একদিনে মোট ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সুনামগঞ্জে পাঁচজন ও রংপুর এবং ময়মনসিংহে দুইজন করে চারজন, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে তিনজন মারা গেছেন।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
দুপুরে ধর্মপাশায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) মারা যান। হবিবুর পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ও বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হবিবুর তার চাচার সঙ্গে টগার হাওরের পাশে ধান কাটতে গেলে ঝড় শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামে বজ্রপাতে জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ ও শিখা মনি (২৫) আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর রহমত উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্য দুইজনকে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।
তাহিরপুরে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) একটি হাঁসের খামারে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান।
জামালগঞ্জে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান। তার সঙ্গে থাকা আরেকজন আহত হয়েছেন।
দিরাই উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) মারা যান। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
রংপুর
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সখিপুর গ্রামে বজ্রপাতে মিলন মিয়া (৩৫) ও তালেব উদ্দিন (৪৫) মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে বৃষ্টির সময় ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাত হয়। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন শিশু ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর মিলন ও তালেব মারা যান।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান ও মিঠাপুকুর থানার ওসি নুরুজ্জামান বিষয়টি জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে দুপুরে দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজন মারা যান।
দুপুর আড়াইটার দিকে গৌরীপুরে ধানখেতে কাজ করার সময় রহমত উল্লাহ নামে এক কৃষক মারা যান। অন্যদিকে, গফরগাঁওয়ে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মমতাজ আলী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নেত্রকোনা
দুপুরে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) মারা যান। তিনি হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুবায়দুল আলম ও আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওড়ে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) মারা যান। তিনি একই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলী সাহেবের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া ও নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কিশোরগঞ্জ
করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিক মারা গেছেন। করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল করিম বলেন, দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হেলাল মিয়া (৩৮) উপজেলার কলাবাতা গ্রামের বাসিন্দা।


