ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রেতা করা মাজেদুলের হক হেলাল আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।
আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরে ২০ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন।
গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) হস্তান্তর করেন।


