নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য দগ্ধ হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- সবজি বিক্রেতা কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সায়মা। এই দম্পতির ছেলে মুন্না (১২), দুই মেয়ে কথা (৪) ও মুন্নি (৭)। সায়মা মেসে রান্নার কাজ করেন।
রোববার সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লা গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ৬ নাম্বার সড়কের ৮ তলা ভবনটির নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন কালাম-সায়মা দম্পতি।
গুরুতর অবস্থায় সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. হাসান জানান, সকাল ৭ টার দিকে সেই বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছে। তখন ভেতর থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসা হয় বার্ন ইনস্টিটিউটে।
তিনি জানান, বাসার গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাটের পশ্চিম পাশের রুমের সাথে থাকা রান্নাঘরে গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল। এতে বন্ধ কক্ষে গ্যাস জমে যায়। পরে ভাড়াটিয়া সিগারেটের লাইটার জ্বালানোর চেষ্টা করলে মুহূর্তেই বিস্ফোরণ ঘটে।
এদিকে, বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, তার স্ত্রীর ৬০, মুন্নার ৩০, কথার ৫২ ও মুন্নির ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের সবার অবস্থাই খুবই আশঙ্কাজনক। পাঁচজনকেই ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


