নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা, বেলুন ও পায়রা ওড়ানো, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়।
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা করা হয়। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও আনন্দের প্রতীক বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে কেক কেটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগসমূহ, শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাবক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান উপাচার্য। পরবর্তীতে ছাত্রদল, ইউট্যাব ও জিয়া পরিষদ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৪৭তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আলীনূর রহমানের সভাপতিত্বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং চারুকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক কামরুল হাসানের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক এম এয়াকুব আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।
এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি ও শিক্ষক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, ১৯৭৯ সালের এইদিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এই দিনটিকে আমরা প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসেবে উদযাপন করি। এ উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া যারা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। শিক্ষা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত দিক থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরিত হবে।’


