যুক্তরাষ্ট্রে দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করবে ভেনেজুয়েলা। এরইমধ্যে কারাকাসের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করেছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার ফলে ভেনেজুয়েলা থেকে চীনে তেল সরবরাহ কমে যাবে। সেই সঙ্গে এই চুক্তি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে- ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাম্পের তেল রপ্তানির দাবি মেনে নিচ্ছে।
ওয়াশিংটনে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে হলে কারাকাসকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর জন্য নতুনভাবে সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তা না হলে আরও বড় পরিসরে মার্কিন সামরিক হামলার ঝুঁকি নিতে হবে।
চুক্তির পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে “সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার” দিক।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিন থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল “নিষেধাজ্ঞাকৃত তেল” হস্তান্তর করবে। এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করব। এই অর্থ ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উপকারে ব্যবহৃত হবে।’
ট্রাম্প জানান, চুক্তিটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবেন মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। এসব তেল জাহাজের সাহায্যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পাঠানো হবে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার তেল সংরক্ষণ ট্যাংকারগুলোতে কোটি কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা এই তেল রপ্তানি করতে পারতো না।
এর আগে মঙ্গলবার রয়টার্সকে কারাকাসের দুটি সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর থেকে ট্যাংকারে পড়ে থাকা এই তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করতে হলে প্রাথমিকভাবে চীনের জন্য রাখা কিছু চালান পুনর্বিন্যাস করতে হতে পারে।
গত এক দশকে, বিশেষ করে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেল বাণিজ্যে জড়িত কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে চীন ছিল ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
কারাকাসের তেল শিল্প-সংশ্লিষ্ট এক সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্প চান এই রপ্তানি প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটুক। যেন চীন কেবল আগের নির্ধারিত তেলটুকুই পায়। নতুন করে বেইজিংয়ের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি কারাকাস করতে পারবে না। এটি ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য।
ভেনেজুয়েলার আটক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর ‘মাদক চক্রে জড়িত’ থাকার অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা দেন ট্রাম্প। তার জেরেই সম্প্রতি কারাকাসের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত প্রেসিডেন্সিয়াল ভবনে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে স্ত্রীসহ আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন সেনারা।
ভেনেজুয়েলার শীর্ষ কর্মকর্তারা মাদুরোকে আটকের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, দেশটির বিপুল তেল সম্পদ লুট করার চেষ্টা থেকেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মাদুরোকে আটক করা হয়েছে।


