বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তনকারী এবং আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ, কালজয়ী দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ।’
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার এক বাণীতে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাণীতে তিনি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তার অবদান জাতির ইতিহাসে এক বীর নায়কের স্থান করে দিয়েছে। পরবর্তীতে একদলীয় শাসন ও নৈরাজ্যের পটভূমিতে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্র ও নাগরিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলেন, বলেন তিনি।
বাণীতে বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, এই মহান দেশপ্রেমিক নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা মেনে নিতে পারেনি এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
তবে শারীরিক অনুপস্থিতিতেও তিনি জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরুক আছেন। পরবর্তীতে তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে সেই আদর্শ ও গণতন্ত্রের ধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন, যোগ করেন তিনি।
বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, গুম, খুন ও জুলুমের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে একটি লুটেরা মাফিয়া অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে।
তিনি বলেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়কে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এবং গণতন্ত্রকে স্থায়ী করতে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।
মির্জা ফখরুল প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সকল নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
একই সঙ্গে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।


