নরসিংদীতে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন- ধর্ষণের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র।
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল – সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আসমা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক তাসলিমা আক্তার বিউটি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুস্মিতা রায় সুপ্তি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘নরসিংদীতে একজন কিশোরীকে ধর্ষণের পর বাবার সামনে থেকে অপহরণ করে আবারও ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো তা বর্বরতম ঘটনা। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল নারীরা এই দেশে কোনসময়ই নিরাপদ নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা থাকলেও তারপর থেকেই নারীরা নানাভাবে ধর্ষণ, নিপীড়ন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সেসময় এসকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তীতেও আমরা নারী নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনা দেখছি।‘
তাদের মতে, ‘আমাদের দেশের শাসকদের নারীদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গী এবং সামাজিক পরিস্থিতিই নারী নিপীড়নের জন্য দায়ী। সকল সরকার দেশে মাদক, জুয়া, নারী বিরোধী নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে নারীদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র নারীর উপর সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।’
অবিলম্বে নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় নারীমুক্তি কেন্দ্র।
১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ছয় জন ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে স্থানীয় মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহমদ আলী দেওয়ান এর বিচার করার দায়িত্ব নেন। তবে তারা মোটা অংকের টাকা খেয়ে কোনও বিচার না করেই পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ দেয়।
গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রাখতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে নূরার নেতৃত্বে ছয় বখাটে বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে। পরদিন সকালে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি সরষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।


