রাষ্ট্র কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনতে শুধু সংশোধন নয়, নতুন সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, ‘এনসিপি মনে করে, এটি গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই সম্ভব। নতুন সংবিধান প্রণয়ন ছাড়া এসব সংস্কার স্থায়ী হবে না।’
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘‘নতুন সংবিধানে নতুনভাবে লিখিত ধারা, উপধারা এবং অনুচ্ছেদের মধ্য দিয়েই আমরা যে সংশোধনী, সংস্কার প্রস্তাবনার ব্যাপারে একমত হয়েছি, সেগুলোকে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’
তিনি জানান, ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘ আলোচনার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে অবিলম্বে বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও অনেক ব্যাপারই সংবিধানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যা টেকসইভাবে পরিবর্তন করতে হলে বড় ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি বিষয়ে আলোচনা করেছি—যার একটিতে আমরা একমত, যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। সেগুলো এই সরকারের সময় থেকেই অর্ডিনেন্স অথবা সরকারের এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’
তবে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র কাঠামোর অনেকগুলো বিষয় রয়েছে, যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যেসব বিষয়ে কথা বলেছি, তাতে সংবিধানের মৌলিক অনেকগুলো জায়গাতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এত বড় ধরনের পরিবর্তন যে শুধু সংশোধনের মধ্য দিয়েই সেগুলোকে টেকসই করা সম্ভব হবে কিনা, সে আশঙ্কার জায়গাটি আমাদের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে।’
এনসিপির এই সদস্য সচিব আরও বলেন, ‘স্মরণ রাখা জরুরি যে, বাংলাদেশে ইতোপূর্বেও হাইকোর্টে সংবিধান সংশোধনী চ্যালেঞ্জ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো বাতিল হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা সংবিধানে যে মৌলিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে এসেছি, সেগুলোকে কীভাবে টেকসই এবং কার্যকর করা যায়, সেই ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আলোচনা এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কমিশনের মেয়াদও শেষের পথে। তবে যদি আরও কিছু সময় পাওয়া যায়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও কমিশনের সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একটি ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব বলে আশা করছি।’
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরও বৃহত্তর ঐক্য গঠনের আহ্বান জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘এই ঐক্যমতের ভিত্তিতেই দেশ এগিয়ে যেতে পারে একটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার দিকে।’


