নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৈঠক করবে। মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, জানিয়েছেন ইসির উপসচিব মাহবুব আলম শাহ্।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিষয়ক কমিটির ১৩তম সভা বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শর্ত পূরণ করা দলগুলোর বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো দাবি-অপত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে সেগুলোর শুনানি গ্রহণ করবে ইসি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দাবি-অপত্তি না এলে ২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন আবেদন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়ে গেজেট প্রকাশ ও নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের সময় অনেক দলের দেওয়া ঠিকানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়নি। কিছু দল ঘণ্টাভিত্তিক ভাড়া করা কার্যালয়ের ঠিকানা দিয়েছে, আবার সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষরিত নথিতে গরমিল পাওয়া গেছে। এমনকি অনেকে জানেন না যে তারা কমিটিতে আছেন। শতভাগ শর্ত পূরণ করতে পারেনি কোনো দলই।
তবে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি শর্ত পূরণ করেছে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি। তার পরেই রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
এ ছাড়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা আমলাদের উদ্যোগে গঠিত জনতার দল, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ সলুশন পার্টি কিছু শর্ত পালন করেছে। অন্যদিকে, অন্যান্য দলের জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের তথ্য যথাযথ পাওয়া যায়নি।
আইন অনুযায়ী, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকতে হয়। এ ছাড়া অন্তত এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা কার্যালয়, অন্তত ১০০টি উপজেলায় কার্যালয় এবং প্রতিটি কার্যালয়ে অন্তত ২০০ ভোটারের নামের তালিকা থাকতে হবে।
অন্যদিকে, কোনো দলের কেউ অতীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে বা আগের কোনো নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোট পেলে সেই দল নিবন্ধনের যোগ্যতা অর্জন করে।
এদিকে, প্রাথমিক বাছাইয়ে ২২টি দল টিকে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ফরওয়ার্ড পার্টি, আমজনতার দল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি), বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী), মৌলিক বাংলা, বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় জনতা পার্টি, জনতার দল, জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)–সিপিবি (এম), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ–শাহজাহান সিরাজ), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস), বাংলাদেশ সলুশন পার্টি এবং নতুন বাংলাদেশ পার্টি।


