কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ ৯৬ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানের একটিতে দুই ইয়াবা পাচারকারীকে আটক করা হলেও অপর অভিযানে চোরাকারবারীরা ইয়াবা ও অস্ত্রের চালান ফেলে মিয়ানমারে পালিয়ে গেছে।
সোমবার ভোরে টেকনাফ উপজেলার উলুবনিয়া সীমান্তে ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করে ৬৪ বিজিবি। একই সময়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে ৩৪ বিজিবি।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল টেকনাফ উপজেলার উলুবনিয়া গ্রামের জোড়াকাঠি এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমারের দিক থেকে ব্যাগ হাতে দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করা হয়।
চোরাকারবারিরা বিজিবির সদস্যদের দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাদের ধাওয়া করে আটক করা হয়। তাদের বহন করা ব্যাগ তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতর নীল রঙের ৩৫ কার্টন ইয়াবা পাওয়া যায়। এসব কার্টনে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
আটকরা হলেন টেকনাফের কাটাখালী হাতিমারা গ্রামের মৃত সৈয়দ আলমের ছেলে নুর বশর (২২) এবং উলুবনিয়া গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে আবুল ফয়েজ (২৫)।
বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছেন, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা তা বহন করছিলেন।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সীমান্তে অভিযান চলমান রয়েছে।’
অন্যদিকে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে ৩৪ বিজিবি। তবে এ ঘটনায় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রোববার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘুমধুম সীমান্তের নয়াপাড়া এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশের খবর পায় বিজিবি। পরে উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়।
রাত সোয়া ১২টার দিকে তাপ শনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে চোরাকারবারীদের গতিবিধি শনাক্ত করে বিজিবি। সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা ইয়াবা ও অস্ত্রের চালান ফেলে রাতের অন্ধকার ও পানির মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি ব্যাগ থেকে ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোরাকারবারীদের গতিবিধি শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তারা মালামাল ফেলে পালিয়ে গেলেও বিপুল পরিমাণ ইয়াবার পাশাপাশি একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের মাদক, অস্ত্র কিংবা চোরাচালানের পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।’
বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারীদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।


