আদালত প্রাঙ্গণে রোজ শত শত মানুষের ভিড়। কারও চোখে হাহাকার, কেউবা ফেরেন বিচার পাওয়ার স্বস্তিতে। তবে রোববারের নওগাঁ আদালত প্রাঙ্গণের এক দৃশ্য সেখানে উপস্থিত সবাইকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও থমকে দিয়েছিল। ১৯ দিন পর আদালতের উদ্যোগে দুই বছরের খুকি লামিয়া যখন তার মায়ের কোলে ফিরে গেল, তখন শিশুর সেই মিষ্টি হাসির সামনে আদালতের কাঠগড়ার সব গাম্ভীর্য যেন ধুলিসাৎ হয়ে যায়। মায়ের কোল পেয়ে মুহূর্তে ঘুচে যায় শিশুটির সব অচেনা ভয়।
ঘটনাটি নওগাঁর আমলী আদালত-২-এর। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালমান আহমেদ শুভর নির্দেশে শিশু লামিয়াকে তার মা চাঁদনী খাতুনের (২২) কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মান্দার তেঁতুলিয়া গ্রামের রাসেল মাহমুদের সঙ্গে বিয়ে হয় ভারশোঁ গ্রামের চাঁদনী খাতুনের। সংসার শুরু হতে যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় টানা নির্যাতন। নির্যাতন সয়েও চাঁদনী টিকে থাকার চেষ্টা করেছিলেন।
কিন্তু গত ২০ জুলাই দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন নতুন মাত্রা পায়। গরম রডের ছ্যাঁকায় হাত পুড়িয়ে দেওয়া হয় তার। এরপর কোল থেকে দুই বছরের অবুঝ শিশুটিকে জোর করে কেড়ে নিয়ে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় তাকে।
মেয়েকে কাছে পেতে চাঁদনী ও তার পরিবার বারবার শ্বশুরবাড়ির দরজায় ঘুরেছেন, কিন্তু শিশুটিকে দেখতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। উপায় না পেয়ে মান্দা আমলি আদালতে মামলা করেন তিনি।
রোববার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রথম সন্তানকে দেখতে পান চাঁদনী। দুপুর একটায় আদালত যখন শিশুটিকে তার জিম্মায় দেন, ততক্ষণে চোখের জলে ভেসেছেন মা।
সন্তানকে কোলে জড়িয়ে চাঁদনী বলেন, ‘বাচ্চাকে কেড়ে নেওয়ার পর বহুবার ওদের দুয়ারে গিয়েছি, দেখা করতে দেয়নি। ১৯ দিন পর মেয়েকে পেলাম। মনে হচ্ছে বুকে যেন পুরো দুনিয়া ফিরে পেয়েছি। আমি সংসারটা করতে চাই, কিন্তু বাপের পক্ষে তো এত টাকা যৌতুক দেওয়া সম্ভব না।’
মান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে। ঘটনার সতত্য মিলে আসামির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


