একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক দল ভোটের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভোটারদের মনে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। সেই সঙ্গে কালোটাকা মহাৎসব, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই সিল মারা ব্যালট পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসবের পরও নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় পেতে চলেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
বৃহস্পতিবার বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, চিহ্নিত রাজনৈতিক দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এমনভাবে ব্যবহার করেছে, যাতে ভোটারদের মনে ভোট বিষয়ে একধরনের ভীতি তৈরি হয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির বিজয় অনিবার্য ও নিরঙ্কুশ। সেটিকে স্তিমিত করার কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না বলেই বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট গ্রহণ শেষে বিএনপির আনুষ্ঠানিক এই ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় যারা আহত ও নানা কারণে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।
ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘ভোটের ফলাফল নিশ্চিত করার আগে কেউ যাতে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ না করেন।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, চিহ্নিত রাজনৈতিক দলটি অনেক জায়গায় ভুয়া পর্যবেক্ষক তৈরির মাধ্যমে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অনেক আগেই আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছিলাম। নির্বাচন কমিশন ক্ষেত্রবিশেষে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেটি আরও আন্তরিক ও সামগ্রিক হলে আরও যথাযথভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ রোধ করা যেত।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই সিল মারা ব্যালট পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। এ ছাড়া অনেক জায়গায় জাল ভোট দেওয়া হয়েছে, মৃত মানুষের ভোট দেওয়ার অভিযোগও এসেছে। অনেকে নিজেদের ভোট দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ পেয়েছে বিএনপি।
মাহদী আমিন বলেন, ‘এসব ঘটনা প্রমাণ করে, ফ্যাসিবাদী আমলের মতোই একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ার অপসংস্কৃতি এখনো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ধানের শীষে জোয়ারে বিএনপির বিজয় হবে। গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত হবে।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর ও সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।


