রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতের পর এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছেন।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা টাইমসকে জানান, বাসের ভেতরে আর কোনো মরদেহ নেই।
তিনি আরও জানান, স্রোতের তীব্রতা এবং লম্বালম্বিভাবে বাসটি তোলায় কিছু মরদেহ নদীতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
এর আগে, এ দুর্ঘটনায় ৪০ জন যাত্রী নিখোঁজের কথা জানানো হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসের এক যাত্রী গনমাধ্যমকে জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে আট থেকে ১০ জন শিশু ছিল বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. মারুফ হাসান সন্ধ্যায় টাইমসকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা হলেন-পাংশা পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ফিলিং সুপারভাইজার মর্জিনা বেগম (৫৬) এবং রাজবাড়ী জেলা সদরের ভবানীপুর লালমিয়া এলাকার রেহানা আক্তার (৬০)।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন জানান, উদ্ধার অভিযান চলছে। রাজবাড়ী, গোয়য়ালন্দ ও ফরিদপুরের তিনটি ইউনিট কাজ করছে।

রাজবাড়ী জেলা প্রসাশনের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, তীব্র কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নদীর তীব্র স্রোতে কাজ করতে ঝক্কি পোহাচ্ছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।
এর আগে বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে অর্ধশত যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকজন সাঁতরে পাড়ে উঠেছেন। তবে অধিকাংশ যাত্রীই নদীতে তলিয়ে যান।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাসটি শনাক্ত করা গেছে। বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহযোগিতায় বাসটি উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সংস্থা ও স্থানীয় ডুবুরি দল উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় পন্টুনে ছিল। ফেরিটি পন্টুনে যুক্ত ছিল। ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন ছিল। চলন্ত বাসটি মুহূর্তের মধ্যে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি পড়ার মুহূর্তে পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন সেদিকে দৌড়ে যান। বাসটি ডুবে যাওয়ার পর সেখান থেকে কয়েকজন ভেসে ওঠেন। তখন পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন তাদের দিকে রশি ও লাইফবয় ফেলেন। তারা সেটি ধরে ওঠে আসেন।


