রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় চালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার তাদের রাজবাড়ীর আদালতে তোলা হয়। এর আগে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবুজার গিফারী তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন বাসের চালক ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮) ও হেলপার শাকিব হোসেন (২২)। মামলায় ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়।
নৌপুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে আসা ঢাকাগামী বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে পৌঁছায়। বাসের প্রায় ৪০ জন যাত্রী নেমে হেঁটে ফেরির দিকে রওনা হন। যাত্রীরা নামার পরপরই চালক ঝন্টু আলী বাসটি বেপরোয়া গতিতে চালাতে শুরু করেন। পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরতে না উঠে বাসটি দ্রুতগতিতে পাশে থাকা ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরিতে উঠে যায়। এরপর বাসটি ফেরির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে শিকল ও ছিটকিনি ছিঁড়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়।
বাসটি নদীতে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে সুপারভাইজার ও হেলপার লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। বাসসহ চালক নদীতে পড়ে যাওয়ার পর সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌপুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে তোলে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটি এখন নৌপুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নৌপুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, ‘নদী থেকে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মালামাল যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’


