জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, আন্তর্জাতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারছে না দেশ। তিনি বলেন, বিদেশি ঋণ আর সহায়তা এই জাতিকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে দেবে না।
শনিবার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনার তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সমাজ চলছে গোঁজামিলের মধ্য দিয়ে। আমরা অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেই না। মনে রাখবেন, পাপ বাপকেও ছাড়ে না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকারি দলের কথা শুনলে মনে হয় তেলের ওপর ভাসছে দেশ। রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কারণেই দেশে তেলের সংকট।’
তিনি বলেন, ‘কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে— এটা যেন ভুলে না যাই। সমাজে যার যেটুকু পাওনা, দিতে হবে। দেশ-জাতির জন্য পাওনা পরিশোধ করতে পারলে হাশরের ময়দানে আল্লাহ হিসাব সহজ করে দেবেন। প্রত্যেক মানুষ যদি আল্লাহর ভয়ে তার দায়িত্ব পালন করে, তাহলে বাংলাদেশ মুক্তি পেয়ে যাবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না। ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়, এইজন্য সমাজকে আর চোখে দেখে না। আসুন আমরা ট্রান্সপারেন্সি গ্লাস দিয়ে সমাজটাকে দেখি। সমাজের মানুষের হাহাকার বোঝার চেষ্টা করি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি ছাড়া আমাদের কোনো চাকাই চলবে না। জ্বালানির একটা অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইমপোর্ট করি। আমাদের নিজেদের সক্ষমতা রয়েছে বিশেষ করে পেট্রোল এবং অকটেনের ক্ষেত্রে শতকরা ৫০ ভাগ।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহ অফুরন্ত সম্পদ রেখেছেন আমাদের এখানে। কিন্তু আমরা পারছি না। আমাদের এক্সপার্ট নেই। আমাদের সম্পদ যেন আমরাই তোলার ব্যবস্থা করতে পারি তারও কোনো উদ্যোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে গত সরকারের কিছু অধ্যাদেশ ছিল যেগুলা সংশোধন করা খুবই জরুরি ছিল। বিশেষ করে স্বাধীন দুদক কমিশন গঠন করা। মতলব হচ্ছে দেশ চলবে আগের কায়দায়। জীবন গেল, পঙ্গু হলো, ক্ষতি হলো দেশের, মায়ের বুক খালি হলো, বহু বোন তার স্বামী হারাল, বাচ্চারা এতিম হলো… এর জবাব কে দেবে? রাজনীতিবিদদেরই এর জবাব দিতে হবে।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এএফবির সভাপতি কৃষিবিদ ড. এটিএম মাহবুব-ই ইলাহী (তাওহীদ)। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন— এএফবির মহাসচিব কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


