দেশে আর চেতনা ব্যবসা চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি দিয়ে ইসলামকে বিভক্ত করতে চাওয়াদের ভোটের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে। যারা জান্নাতের টিকেট বিক্রি করতে চাইছে, তারা ধর্ম ব্যবসায়ী। এ দেশে চেতনার ব্যবসা চলবে না।’
একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একাত্তরের চেতনা ব্যবসা করতে করতে শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর দাফন হয়েছে দিল্লীতে। একাত্তরের চেতনা ব্যবসা দেশের মানুষ ধারণ করেনি। তেমনি জুলাইয়ের চেতনাও যেন কেউ বিক্রি না করে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ অতীতের মতো ভাষণ আর শোষণের রাজনীতি দেখতে চায় না। প্রতিটি হত্যার বিচার করা হবে, তবে বিচার একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে বিচার শুরু হয়েছে। আগামীতে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন ও তদন্ত দল বাড়ানো হবে।
ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হতে পারে। কিন্তু সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’ তিনি নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে গুজবের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ারও আহ্বান জানান।
সরকারবিরোধী অভিযোগ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশের কিছু রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যম নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার মাধ্যমেই সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।’
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে, তার নেতৃত্ব দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে মুখিয়ে আছে। তরুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক।’
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস লুটপাট ও দুর্নীতির ইতিহাস। ভোটচুরি, গণতন্ত্র হরণের ইতিহাস। যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, যারা গুম, খুন, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বিএনপি তাদের বিচার করবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে। এতে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’


