দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষার জন্য হাওর ইজারা দেওয়া বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, বাওড়ের ইজারা বন্ধ করেছি। হাওর ইজারা দেওয়া বন্ধ করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশি মাছের বিলুপ্তি রোধে ইতোমধ্যে অনেকগুলো নতুন জলাশয়কে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই নতুন মৎস্য নীতি-২০২৫ চূড়ান্ত করা হবে। উন্মুক্ত জলাশয় রক্ষা এবং জলাশয়ের ওপর ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছি।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের মৌলিক নীতিমালা: বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি। গত এক বছরে ৪০ হাজার নারী জেলেকে ‘জেলে কার্ড’ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সিলেটের ওয়াইজঘাট থেকে সেমিনারে যোগ দিয়েছেন কৃষক প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল। হাওরাঞ্চলের বিলগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কামাল বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা মেশিন দিয়ে বিলের পানি সেঁচে শুকিয়ে ফেলে। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে।’
পুকুরে মাছ চাষের জন্য যে খাদ্য দেওয়া হয় মাছকে, সেটাকে স্বাস্থ্যসম্মত করার জন্য সরকারকে নজরদারি করার আহ্বান জানান চুয়াডাঙ্গার কৃষক প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন। এ ছাড়া বিক্রির জন্য মাছ পরিবহনের সময় হাইওয়ে পুলিশ যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চ (সিএসআর) এর গবেষণা পরিচালক আহমেদ বোরহান। সেখানে বলা হয়, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মাছ এবং মুরগির মাংসের নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়া বিদ্যমান। পোল্ট্রিখাতে ৯০ শতাংশের বেশি খামারে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। এরপরও শুধু অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাদু পানি থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে গেছে। ২০২৩ সালে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ২৫৩ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪টি প্রজাতিকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, দেশের ৩৬ শতাংশ ক্যানসারের রোগী কৃষি পেশায় যুক্ত।’ এজন্য কৃষিক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগকে দায়ী করেছেন তিনি।
মৎস্য সংরক্ষণ বিষয়ক গবেষণার জন্য এনজিওদের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর বাংলাদেশ রিপ্রেজেন্টেটিভ শি জিয়াওকুন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটএর মহাপরিচালক শাকিলা ফারুক, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক কানিজ ফাতেমা, অ্যাগ্রোইকোলজি কোয়ালিশন বাংলাদেশের আহ্বায়ক মহসিন আলী, বরগুনার এনজিও নজরুল স্মৃতি সংসদের নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দীন পান্নাসহ অনেকে।
অ্যাগ্রোইকোলজি কোয়ালিশন বাংলাদেশ, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জার্মানভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে (ডব্লিউএইচএইচ), ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও এফআইভিডিবির যৌথভাবে এই পলিসি ডায়লগের আয়োজন করে।


