দেশজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল বাঙালি জাতি।
৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, অসংখ্য মা-বোনের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতন ও অগণিত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় বাঙালির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তি।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ ছাড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিজয় শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সারা দেশে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন
মেহেরপুরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়।
প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় শহীদ স্মৃতিসৌধে ফুল দেন।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, সিভিল সার্জন অফিস, মেহেরপুর প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ জেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে গণকবরে এক মিনিট নীরবতা
লক্ষ্মীপুরেও সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
এদিন সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে গণকবরে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।
এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, বিজয় র্যালি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

ঝালকাঠিতে অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
ঝালকাঠিতে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে হাজারো মানুষ।
মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় পুস্পস্তাবক অর্পনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
পরে সকাল ৯টায় স্থানীয় পৌর মিনি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক মো. মোমিন উদ্দিন।
এ ছাড়াও দিনভরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, খেলাধুলা, আলোচনা সভা, শিশুদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রঙ্কনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ।
পিরোজপুরেও তোপধ্বনি
পিরোজপুরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বলেশর ঘাটের শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ও সড়কে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এ ছাড়া শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুস্প স্তাবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান ও সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী আল আমীন খান।
এ সময় জেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা তথ্য অফিস, সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারী মহিলা কলেজ, সড়ক বিভাগ, এলজিইডি, গতপূর্তবিভাগহ পিরোজপুর প্রেস ক্লাবসহ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।
এদিন সকাল ৯টায় জেলা স্টেডিয়াম মাঠে পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ ও শারিরীক কসরত প্রদর্শন করে।
পরে বেলা ১২ টায় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।

দিনাজপুরে মহান বিজয় দিবসে সাংবাদিক ইউনিয়নের শ্রদ্ধা নিবেদন
দিনাজপুরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা। মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করা হয়।
সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. ফারুক হোসেন-এর নেতৃত্বে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুর-এর সদস্যরা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতার বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক আব্দুস সালাম, সংগঠনের সদস্য মো. মিজানুর রহমান (মিজান), মো. ইসমাইল হোসেন, মো. আরমান হোসেন, এস এম আজাহার রেজা, মো. রবিউল, এস এ স্বপন-সহ অন্যান্য সদস্যরা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নেতৃবৃন্দ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য এবং দেশ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত
কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন পৃথকভাবে নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। এ সময় সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টায় গুরুদয়াল সরকারি কলেজের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার এস. এম ফরহাদ হোসেনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এদিন সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয় ।
বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা।
এ ছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানাগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোতে করা হয় বিশেষ প্রার্থনা ।
মাগুরায় মহান বিজয় দিবস পালিত
মাগুরায় যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন মাগুরা বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। মঙ্গলবার ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি ভবনে তোলা হয় জাতীয় পতাকা।
সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে নোমানী ময়দানে শহিদ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড, মাগুরা পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিভিল সার্জন কার্যালয়, বিএনপিরসহ তার অঙ্গ সংগঠন, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাগুরা প্রেস ক্লাব ও বিভিন্ন সামাজিক সংস্কৃতিক সংগঠন।
সকাল ৯টায় মাগুরা স্টেডিয়ামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা। সকাল সাড়ে ১১টায় নোমানী ময়দানে তিনদিন ব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়। বেলা ১২টায় জেলা অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া বিকাল ৩টায় মাগুরা সরকারি শিশু পরিবারের মাঠে জেলা পর্যায়ে মহিলা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। বিকাল সাড়ে ৪টায় কালেক্টরেট মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।
সন্ধ্যায় শহরের ভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জেলা তথ্য অফিস মুক্তিযুদ্ধের প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন ও সন্ধ্যা ৭টায় জেলা অডিটোরিয়ামে মুক্তিযুদ্ধে তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ এর কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে ।

চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন
চুয়াডাঙ্গায় ভোরে শহরের শহীদ হাসান চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভের শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এর আগে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।
এ ছাড়া বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ডিসি সাহিত্য মঞ্চে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপন
টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ৩১ বার তোপধ্বনি ও শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক শরীফা হক শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। এরপর জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা পরিষদের পক্ষে প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্নাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, এরপর একে একে, টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব, টাঙ্গাইল প্রিন্ট মিডিয়ার অ্যাসোসিয়েশন, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনতা শহীদ স্মৃতিস্তবে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
এদিকে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভে একে একে শ্রদ্ধা নিবেন করেন জেলা বিএনপি, টাঙ্গাইল পৌরসভা, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়ন, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, টাঙ্গাইল নারী কল্যাণ উদ্যোক্তা ফোরাম, জেলা এসএসসি ৯৬ গ্রুপ, টাঙ্গাইল ৯৬ কল্যাণ ফাউন্ডেশন সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ ছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে দোয়া করা হয়।
এদিকে সকাল ৯ টায় শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে শরীর চর্চা প্রদর্শন ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সালাম নেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।
এ সময় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু উপস্থিত ছিলেন। এ ছাডা বিজয় দিবস উপলক্ষে পরে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। ছবি: টাইমস
নেত্রকোনায় বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা আয়োজন
নেত্রকোনায় মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোসহ নানা কর্মসূচিতে উৎযাপিত হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন,কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শণ, বিজয় মেলা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, ছবি আকাঁ আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ দিনভর নানা আয়োজন কর্মসূচির পালন হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে জেলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান প্রশাসন, পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম,জেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়্রুল হকের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা, কিবরিয়া চৌধুরী হেলিমের নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠন, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ জনতা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
পরে স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রর্দশিত এবং শিশু একাডেমির উদ্যোগে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
নড়াইলে বিজয় দিবস পালিত
নড়াইলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যেও মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়।
এরপর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।
শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এবং দেশ ও জাতির অগ্রগতি ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ স্টেডিয়ামে দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন সিকদারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।


