ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ‘দূষিত পানি পান করে’ গত কয়েক দিনে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের পোস্ট মুছে ফেলতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে।
এসব অভিযোগে বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভে নামেন হলটির আবাসিক ছাত্রীরা। তারা হল থেকে সড়কে নেমে তিন দফা দাবি জানান এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রশাসন ও হল সংসদের পদত্যাগ দাবি করার হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই হলের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর মধ্যে পানিবাহিত রোগের উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। একপর্যায়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেলেও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দূষিত পানির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পোস্ট মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। হল সংসদ, হল অফিস এবং বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে বারবার ফোন করে পোস্ট ডিলিট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর তিনি সহপাঠীদের কাউকেই পাশে পাননি, কারণ প্রায় সবাই তখন অসুস্থ ছিলেন। পরে কয়েকজন বন্ধু তাকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নিয়ে যান। তবে সেখানে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে পাওয়া যায়নি।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘প্রতি বছর ভর্তি ও সিট নবায়নের সময় স্বাস্থ্য খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। তাহলে সেই টাকা কোথায় যায়?’
আন্দোলনকারী অদিতি ইসলাম বলেন, হল সংসদের পক্ষ থেকে পানির ফিল্টারের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে প্রভোস্টের কাছে জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন দায়িত্বে থেকেও হলের পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশাসনের মৌলিক ধারণার ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষে অদিতি ইসলাম তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবি গুলোর মধ্যে রয়েছে: হলের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্যান্টিন খাতে প্রশাসন ও হল সংসদের নেওয়া পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট বাজেটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা প্রশাসনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পোস্ট বা মতামত মুছে ফেলতে চাপ প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে।
অদিতি ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে প্রশাসন ও হল সংসদের পদত্যাগ দাবি করা হবে।’
হলের প্রভোস্ট মাহবুবা সুলতানা বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যখাতে আলাদাভাবে কোনো বাজেট নেই। এর প্রতিক্রিয়াতেই মূলত শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বের হয়ে এসে বিক্ষোভ করছে।


