ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির সব দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির কথা জানান এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান।
সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে রেলিং থাকায় ট্রাফিক পুলিশের মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ও গুদামে অভিযান চালিয়ে সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা।
এসব হয়রানি বন্ধ, সরবরাহ নিশ্চিত করা ও কমিশন বাড়ানোসহ সাত দফা দাবিতে দুইদিন সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। দুই দিনের মধ্যে দাবিগুলোর সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সেলিম খানের অভিযোগ, নিরাপত্তার জন্য এলপিজিবাহী পিকআপ ও ট্রাকে রেলিং রাখা বাধ্যতামূলক। রেলিং ছাড়া কোম্পানিগুলো সিলিন্ডার সরবরাহ করে না। অথচ রেলিং থাকার কারণেই ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েও প্রতিকার মেলেনি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অন্যায়ভাবে জরিমানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা কমিশনের পরিবর্তে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ কমিশন চায় সমিতি।
তাদের দাবি, পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কমিশন নির্ধারণের পর পরিবহন, জ্বালানি, সিলিন্ডার ওঠানো-নামানো, গুদামভাড়া ও লাইসেন্স ফি বেড়েছে।
সেলিম খানের দাবি, ছয় থেকে সাতটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নিয়মিত এলপিজি সরবরাহ করতে পারছে না। অনেক কোম্পানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় সারা দেশে কয়েক লাখ সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। এসব সিলিন্ডারে সরকারি উদ্যোগে বা অন্য কোম্পানির মাধ্যমে গ্যাস ভরে বাজারে সরবরাহের দাবি জানিয়েছে সমিতি।
বিইআরসি প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করলেও কিছু কোম্পানি পাঁচ থেকে সাত দিন পর আবার দাম পরিবর্তন করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে মাসে একাধিকবার দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও বিইআরসির ঘোষণার বাধ্যবাধকতা চান ব্যবসায়ীরা।
সমিতির অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কোম্পানির চালানে প্রকৃত দাম উল্লেখ, পরিবেশকের গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে না দিলে ন্যায্য পরিবহন খরচ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে শুধু গাড়িতে রেলিং থাকার কারণে মামলা না দেওয়া। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধের দাবিও রয়েছে।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা।
বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক ও দাবি পূরণের আশ্বাসে ওই দিন বিকালে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। এবারের কর্মসূচি এমন সময়ে এল, যখন সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।


