পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর প্রদেয় সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবির বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
দুটি মামলায় একটি ১৫ পৃষ্ঠা এবং অপরটি ৩২টি পৃষ্ঠার রায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
দুটি রায় লেখেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া, তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি রেজাউল করিম।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রুল খারিজ করে রায় দেয়। রায়ে আয়কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করে এনবিআরের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রিট খারিজ হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে। পরে ওই রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে রায় প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ প্রদেয় অর্থের দাবি জানানো হয়। এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ।
২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায় জারি করে। হাইকোর্টে সেই রুল খারিজ (ডিসচার্জ) করা হয়।
পরে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের পৃথক আবেদন ১৪ সেপ্টেম্বর কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয় আপিল বিভাগেরে চেম্বার আদালত। গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ২০২৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা গেছে।


