সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর কাস্টমস হাউসের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
গণঅনশনে বন্দর রক্ষা কমিটির নেতা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এ সময় তারা ‘আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেব না’ এবং ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড, ফিরে যাও’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ৮ অক্টোবর চুক্তি সইয়ের দিন মিছিল থেকে সরকারকে আলোচনার উদ্যোগ নিতে দুই দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা গণঅনশনে অংশ নিয়েছেন।
সমাবেশে শ্রমিকনেতারা দাবি করেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবাণিজ্যের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে জাতীয় অর্থনীতি, ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বন্দর আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি দূর করার যুক্তিতে সরকার এ চুক্তি করলেও এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। শ্রমিকনেতাদের অভিযোগ, এ উদ্যোগে দেশের স্বার্থের চেয়ে বিদেশি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পেতে পারে।
নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করা না হলে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ৮ অক্টোবর এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে শ্রমিক নেতারা। সে সময় লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
এদিন ঢাকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ মিলনায়তনে এই চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড ১৫ বছর টার্মিনালটি পরিচালনা করবে এবং তারা বাংলাদেশ সরকারকে প্রাথমিকভাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার এককালীন ফি দেবে।


