অবৈধ অভিবাসন শূন্যের কোঠায় নামিতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ শতভাগ বৈধ ও দক্ষ কর্মী পাঠাতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বে এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান মন্ত্রী।
এ সময় দুই পক্ষই অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, বৈধ উপায়ে দক্ষ জনশক্তি রফতানি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অবৈধ অভিবাসনের ব্যাপারে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে মানবপাচার রোধে এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ ইইউর সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি জানান, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ থেকে শতভাগ বৈধ ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করতে চায় ঢাকা।
ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অভিবাসন পথ পুরোপুরি বন্ধ করা উভয় পক্ষেরই অগ্রাধিকার। অবৈধ অভিবাসন হ্রাস পেলে বৈধ উপায়ে বাংলাদেশী কর্মীদের ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে বৈধ অভিবাসনের গতি ত্বরান্বিত করতে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশী কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় সাড়ে সাতশ দক্ষ কর্মীর ইউরোপিয়ান সার্টিফিকেশন জটিলতা দূর করতে ইইউভুক্ত দেশের প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ইইউ প্রতিনিধি দল ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দরে ট্রাফিক মনিটরিং এবং অপরাধী চিহ্নিতকরণে এ বছরের শেষ নাগাদ ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ কার্যকর করা হবে। এটি ইন্টারপোল ডেটাবেজের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ইউরোপিয়ান বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সি ফ্রন্টেক্সের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে ইইউর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। ইইউ প্রতিনিধি দল এ ইস্যুতে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রতিনিধিদলে আরএ ছিলেন বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডিরেক্টর হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস, ইইউর ডেপুটি হেড অব মিশন বাইবা জারিনা।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


