সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে যুুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
সোমবার জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তাহের বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর যে কদর্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে হেনস্তা করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি তাকে হেনস্তা করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
‘বিশ্ববাসীর কাছে সম্মানীয় ও নোবেল বিজয়ী ইউনূসকে হেনস্তা করার মধ্যদিয়ে দেশের সব নাগরিক এবং রাষ্ট্র হিসেবে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে অপমানিত ও খাটো করা হয়েছে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাহের বলেন, ‘দেশের মান মর্যাদা বিশ্ব দরবারে সমুন্নত রাখতে বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কারোর জন্যই সমীচীন নয়, যা ফ্যাসিস্টদের দোসররা করেছে। এ ধরনের আচরণ থেকে সবার বিরত থাকা উচিৎ।’
জামায়াত এমপি আরও বলেন, ‘পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও সফররত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। দেশের শান্তিপ্রিয় ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাই কমিশনগুলোর কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ বলেও মনে করেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে কয়েকজন অবমাননাকর মন্তব্য করেন ও চিৎকার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের কেউ কেউ ইউনূসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তোলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে, ওই ব্যক্তিদের ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেপ্তার ও গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলতে দেখা যায়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন। সেই সময় কয়েকজন তার কাছে গিয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকেন।
ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে তার উদ্দেশে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘আপনি এখানে কেন এসেছেন?’ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউনূসের সফরসঙ্গীরা তাকে বিমানবন্দরের ভেতরে আরও নিরাপদ একটি স্থানে নিয়ে যান।


