চবি ছাত্রদল সেক্রেটারির বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও হুমকির অভিযোগ

চবি ছাত্রদল সেক্রেটারির বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও হুমকির অভিযোগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু ভবনের সামনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, হল প্রভোস্টকে হুমকি এবং চাকসু সহসভাপতিকে (ভিপি) নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।

অভিযোগ প্রমাণে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে আলটিমেটাম দিয়েছেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসাইন রনি; অন্যথায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় চাকসু ভবনের সামনে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসাইন রনি।

লিখিত বক্তব্যে শাহ আমানত হলের মসজিদ সংস্কারকাজে নোমানের টেন্ডারবাজির কারণে কাজ তিন মাস আটকে থাকার অডিও ক্লিপের কথা উল্লেখ করে ভিপি রনি জানান, টেন্ডার হওয়ার পরও কাজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সালাত আদায় করতে হয়েছে।

এ ছাড়া গত ৩১ আগস্টের আরেকটি অডিও ক্লিপের সূত্র ধরে তিনি অভিযোগ করেন, এক কর্মীর জন্য অবৈধ আবাসিক আসন বরাদ্দের উদ্দেশ্যে সোহরাওয়ার্দী হলের তৎকালীন প্রভোস্ট আব্দুল মান্নানের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও হুমকি দেন নোমান, যার জের ধরে পরবর্তী সময়ে প্রভোস্ট পদত্যাগ করেন। উভয় ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি ছাত্রদলের এক মিছিলে নোমান ভিপি রনির বিয়েতে ১০ ভরি স্বর্ণ দেওয়ার যে দাবি করেছেন, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান রনি। বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণের জন্য নোমানকে তিন দিনের সময় দিয়ে রনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ দিতে পারলে আমি স্বেচ্ছায় চাকসুর ভিপি পদ থেকে পদত্যাগ করব। অন্যথায় নোমানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনকে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে চবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, শিক্ষক হেনস্তা, নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিদের মানহানি, ক্যানটিনে বিনা মূল্যে খাবার গ্রহণ, হলের বই চুরি করে বিক্রি, নারী হেনস্তা, র‍্যাগিং, সাংবাদিকদের হুমকি, হলে মাদক সেবন ও দোকানিকে মারধরের নানা অভিযোগ আনা হয়।

চাকসু প্রশাসনকে প্রতিটি অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে বিচার নিশ্চিতের তাগিদ দেয় এবং ছাত্রদলের কোনো কর্মকাণ্ড বা চক্রান্তে ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিঘ্নিত হলে তার দায় ছাত্রদল ও প্রশাসনকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম (হারেস মাতাব্বর), স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আফনান হাসান ইমরান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান, সহযোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবায়দুল সালমান এবং সহসাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ হোসাইন (জিহাদ আহনাফ)।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad