দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের চলমান কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘যারা অভিভাবক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা থাকবেন। অ্যাডহক ভিত্তিতে যারা ব্যবস্থাপনা কমিটিতে আছেন, নিয়মের কোনো ব্যত্যয় না হলে তারাও থাকবেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। শিগগিরই নতুন প্রবিধান আসবে, এরপর সেই অনুসারে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নতুন প্রবিধানমলা চূড়ান্ত না হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
মূলত, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কলেজ পর্যায়ের পরিচালনা কমিটিকে গভর্নিং বডি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের কমিটিকে ম্যানেজিং কমিটি বলা হয়। এসব কমিটি গঠন করা হয় শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ৩১ অগাস্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির প্রবিধানমালা সংশোধন করা হয়। সেখানে বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম চার বছর মেয়াদি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং বেসরকারি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়।
এর আগের প্রবিধানমালায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মচারী, শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তি বা সমাজসেবকদের মধ্যে থেকে তিনজনের নাম সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর বিধান ছিল।
কিন্তু সংশোধিত প্রবিধানমালায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে নবম গ্রেডের নিচের নয় এমন সরকারি কর্মকর্তা, পঞ্চম গ্রেডের নিচে নয় এমন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, এমবিবিএস বা প্রকৌশল বা কৃষিসহ যে কোনো কারিগরি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রিসহ নবম গ্রেডের নিচে না এমন কর্মকর্তা বা পঞ্চম গ্রেডের নিচে না এমন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর বিধান সংযোজন করা হয়।
এর ফলে জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্যদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর নতুন এমপিদের কেউ কেউ সভাপতি পদের যোগ্যতা শিথিল করে প্রবিধানমালা আবার সংশোধন করার দাবি জানান। আগের মতই জনপ্রতিনিধিদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ চান তারা। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।


