বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ তিনদফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ায় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্দোলনরত শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এ বৈঠকে শিক্ষক নেতারা যোগ দেবেন।
টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ‘শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটে’র সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি।
তিনি জানান, দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের একদফা দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরের ‘লং মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি থেকে সরে আসার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা শিক্ষক নেতাদের আশ্বাস দিয়েছেন, যুক্তিযুক্ত দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হবে।
দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, ‘বুধবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বাজেট সঙ্কটের কথা বলে আমাদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। তবে আমরা বলেছি, আপাতত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলেও নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ আগামী জুলাই থেকেই বাকি ১০ শতাংশও বৃদ্ধি করতে হবে। ২০ শতাংশ বাড়িভাড়ার নিচে শিক্ষকরা মানবেন না।’
তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের দাবি পূরণের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বৈঠকে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বৈঠকে তিনটি দাবির বিষয়ে একটা সমাধানযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে মন্ত্রণালয়। ‘এজন্য আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশায় বৈঠকে বসছি’, বলেন আজীজি।

মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকাতে উত্তীর্ণ করা এবং কর্মচারীদের জন্য উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবিতে দেশের সব এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা। গত রোববার রাত থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান ধর্মঘট পালনকারী শিক্ষকদের বৃহস্পতিবার সকালেও সেখানেই অবস্থান করতে দেখা যায়।
টাইমস অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিবাদী গান গেয়ে নিজেদের উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। শহীদ মিনারে গাছের ছায়ায় জটলা করে গল্প-আড্ডায়ও মেতে উঠেছেন অনেকে।
কেউ খোলা আকাশের নিচেই সকালের নাশতা সারছেন। কেউবা ফেরিওয়ালাদের ফলমূল-চাটনি-আইসক্রিম খেয়ে সতেজ হওয়া চেষ্টা করছেন। সকাল দশটার পরেও অনেককে সবুজ ঘাসের ওপর কাঁথা বিছিয়ে শুয়ে বিশ্রাম করতে দেখা গেছে।
শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষকরা জানান, শিক্ষক নেতারা বৈঠক থেকে ভালো সংবাদ নিয়ে ফিরে এলে তারা কর্মসূচি শেষ করবেন। অন্যথায়, অবস্থান কর্মসূচি অনশনে রূপ নেবে এবং চলমান কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।


