থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের মা ও সাবেক রানি সিরিকিত মারা গেছেন। তার বয়স ৯৩ বছর। দেশটির রয়্যাল হাউসহোল্ড ব্যুরোর এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন রানি সিরিকিত। সম্প্রতি তার রক্তেও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ থেকে তিনি আর সুস্থ হতে পারেননি।
এরইমধ্যে রানি সিরিকিতের রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন রাজা ভাজিরালংকর্ন। তার মরদেহ ব্যাংককের রাজপ্রাসাদের দুসিত থোর্ন হলে সমাহিত করা হবে। রাজপরিবার ও দরবারের পক্ষ থেকে এক বছরের শোক পালন করা হবে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

রানি সিরিকিতের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। সাবেক রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তিনি আসিয়ান সম্মেলন ও মালয়েশিয়া সফরও বাতিল করেছেন।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের আয়োজনেও তিনি অনুপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রানি সিরিকিত ছয় দশকেরও বেশি সময় থাইল্যান্ডের রাজপরিবারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন প্রয়াত রাজা ভূমিবল আদুল্যাদেজের স্ত্রী। ফ্রান্সে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সিরিকিতের বাবা সে সময় দেশটির থাই রাষ্ট্রদূত ছিলেন। প্যারিসে পড়াশোনার সময়ই তার সঙ্গে পরিচয় হয় তরুণ রাজপুত্র ভূমিবলের। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের ২৮ এপ্রিল তারা বিয়ে করেন।

ভূমিবলই থাই ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ভূমিবলের মৃত্যুর পর ২০১৬ সালে দম্পতির একমাত্র ছেলে মহা ভাজিরালংকর্ন দেশটির রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
থাইল্যান্ডের জনগণের কাছে রানি সিরিকিত অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৭৬ সাল থেকে তার জন্মদিন, ১২ আগস্টে দেশব্যাপী ‘মা দিবস’ পালন করা হয়। ২০১২ সালে স্ট্রোক করার পর থেকে তিনি খুব কম সময়ই জনসমক্ষে আসতেন।


